৪০ মার্কিন রণতরী করোনায় আক্রান্ত

প্রাথমিকভাবে মার্কিন নেভির পরিকল্পনা ছিল করোনা ধরা পড়লেও রনতরী সমুদ্রেই রাখা হবে - ইন্টারনেট

একের এক মার্কিন রণতরীতে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি মার্কিন রণতরীতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনএনের খবরে বলা হয় ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬টি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের সৈনিকরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া আরো ১৪টি রণতরীতে সৈনিকদের মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। তবে সেগুলোকে করোনামুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভির একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএনের খবরে বলা হয়, এসব জাহাজের নাম ও আক্রান্ত সৈন্য সংখ্যা সর্ম্পকে বিস্তারিতভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহি রনতরী থিওডর রুজভেল্ট ঘটনার পর পেন্টাগণ সিদ্ধান্ত নেয় আক্রান্ত সৈনিকদের তথ্য প্রকাশ না করার। কারন চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ মার্কিন শত্রু রাষ্ট্র এর সুযোগ নিতে পারে। থিওডর রুজভেল্টে করোনা আক্রান্ত সৈনিকদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১১শ।

সিএনএনের ২২ এপ্রিলের খবরে বলা হয়েছে ৩ হাজার ৫৭৮ জন মার্কিন সৈন্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মার্কিন নেভির গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রায়ার ইউএসএস কিডে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। ৩০ এপ্রিল নেভির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ রণতরীর ৭৮ জন নৌ সেনা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ২৮ এপ্রিল এটি সান দিয়াগো ঘাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

দক্ষিণ আমেরিকার প্যাসেফিক উপকূলে মোতায়েন ছিল এ রণতরী। এতে ৩৩০ জন নৌসেনা রয়েছে। জানুয়ারি থেকে সাগরে মোতায়েনকৃত এ জাহাজে কিভাবে করোনা ভাইরাস আসলো তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন নেভি। মধ্য মার্চে জাহাজটি শুধুমাত্র হাওয়াই বন্দরে গিয়েছিল। এ ছাড়া এ জাহাজে নতুন কোনো সৈন্যের আসা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। পেন্টাগন মুখপাত্র জোনাথন হফম্যান জানান, করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর ৮ সদস্যের একটি নেভি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে রণতরীতে।

সান দিয়াগোর স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আরো অন্যান্য অনেক গণমাধ্যমে ডেস্ট্রয়ারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। থিওডর রুজভেল্টের অভিজ্ঞতার আলোকে ডেস্ট্রায়ার কিডকে করোনা মুক্ত করতে মার্কিন নেভি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । করোনা ধরা পড়ার পর দেরি না করে এ রণতরী ঘাটিতে ফিরিয়ে এনে নৌ সেনাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে মার্কিন নেভির পরিকল্পনা ছিল করোনা ধরা পড়লেও রনতরী সমুদ্রেই রাখা হবে এবং আক্রান্তদের জাহাজে রেখেই চিকিৎসা ও করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হবে। ২৪ মার্চ মার্কিন নেভির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি থমাস মোডলি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এটি আমাদের একটি অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা যে, কোডিভ-১৯ ধরা পড়ার পরও আমরা রণতরী সাগরে মোতায়েন রাখব।

মার্কিন নেভির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্ব›দ্ব দেখা দেয় বিভিন্ন জাহাজের কমান্ডারদের মধ্যে। বিমানবাহী রণতরী থিওডর রুজভেল্টের সৈনিকদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়লে জাহাজের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ব্রেট ক্রজিয়ার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ জানান, দ্রুত সৈনিকদের করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে জাহাজ ঘাটিতে ফেরত নিতে। এ নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয় নেভির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মধ্যে। এ নিয়ে ব্রেট ক্রুজিয়ারকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে আবার তাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।

মার্কিন নেভির পক্ষ থেকে ৩০ এপ্রিল জানানো হয়েছে ওই দিন পর্যন্ত বিমানবাহী রাণতরী থিওডর রুজভেল্টে ১ হাজার ১০২ জন নৌ সেনা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ জন সৈনিক। বর্তমানে এ রণতরী গুয়াম দ্বীপে ডক করা রয়েছে। করোনা ধরা পড়ার পর ২৭ মার্চ এটি গুয়াম দ্বীপে আনা হয়। যে ২৬টি রণতরীতে করোনা ভাইরাসে সৈনিকরা আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে সেসব জাহাজ বিভিন্ন ঘাটিতে ডক করে রাখা হয়েছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে বর্তমানে ৯০টি রণতী সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। সেব জাহাজ করোনামুক্ত। মার্কিন নেভিতে বর্তমানে সক্রিয় রণতরীর সংখ্যা ২৯৭টি। থিওডর রুজভেল্ট, রোনাল্ড রিগানসহ মোট চারটি বিমানবাহী রণতরিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার খবর বের হয় এপ্রিলের শুরুতে। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি করোনায় আক্রান্ত আর এর সুযোগ নিতে চাচ্ছে শত্রুরা।

করেনা পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন ৪টি রণতরী প্রবেশ করেছে ব্যারেন সাগরে। ব্যারেন সাগরের অবস্থান রাশিয়র উত্তর-পশ্চিম আর্কটিক উপক‚ল থেকে দূরে । ১৯৮০ সালের পর এই প্রথম মার্কিন রণতরী প্রবেশ করল ব্যারেন সাগরে। এ তথ্য জানানো হয়েছে মার্কিন নেভির ষষ্ঠ বহর থেকে।

ব্যারেন সাগর যদিও আন্তর্জাতিক পানি সীমা তবে এটি রাশিয়ান নেভির ব্যাকইয়ার্ড হিসেবে ভ‚মিকা পালন করে আসছে। রাশিয়ান নেভির প্রাণ হলো নর্দার্ন ফ্লিট। এই ফ্লিট মোতায়েন রয়েছে ব্যারেন সাগর উপকূল থেকে দূরে।

মার্কিন নেভি জানিয়েছে, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়কে ব্যারেন সাগরে তাদের জাহাজ মোতায়েনের ইচ্ছার বিষয় জানিয়েছে। রাশিয়া সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটি ন্যাটো স্ট্রাইক গ্রুপের কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করছে। চারটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। এতে রয়েছে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। এগুলোর নাম পর্টার, ডোনাল্ড, কুক এবং রুজভেল্ট।

মার্কিন মহাকাশ গবেষনা সংস্থা নাসা আগামী ২৭ এপ্রিল নভোচারীসহ মহাকাশ যান উৎক্ষেপন করবে। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি হবে প্রথম তাদের এ ধরনের অভিযান। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এ মহাকাশ যান যাত্রা করবে। এতে দুজন নভোচারী থাকবে। মহাকাশ যান কক্ষপথে প্রবেশের পর নভোচারিরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে অবতরণ করবে। সেখানে বর্তমানে তিন জন নভোচারী অবস্থান করছেন। তাদের একজন আমেরিকান এবং দুই জন রাশিয়ান।

যে রকেট এবং মহাকাশযানের মাধ্যমে নতুন এ মিশন পরিচালনা করা হবে তা নির্মান করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন ধনকুবের ও উদ্যোক্তা এলেন মাস্ক। এ মিশন সফল হলে এটি হবে প্রথম কোনো বেসরকারি সংস্থা যারা নাসা নভোচারিদের মহাকাশে পাঠাচ্ছে। মার্কিন স্পেস শাটল ২০১১ সাল থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ মিশন পরিচালনার জন্য রাশিয়ার রকেট ব্যবহার করে আসছে।

এবার বেসরকারি যে রকেট এবং স্পেসক্রাফটের মাধ্যমে মিশন পরিচালনা করা হবে তার নাম যথাক্রমে ফ্যাকন নাইন এবং ক্রু ড্রাগন। ঐতিহাসিক এপোলো এবং শাটল মিশন যেখান থেকে উৎক্ষেপন করা হয়েছিল সেখান থেকে যাত্রা করবে এবারের বেসরকারি এ মহাকাশ যান।

যে দুজন নভোচারি মহাকাশযানে যাত্রা করবেন তারা হলেন বব বেহনকেন এবং ডগ হারলে। তাদের কক্ষপথে পৌছতে ২৪ ঘন্টা লাগতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে ১১৯ দিন তাদের সেখানে থাকার কথা।

চীনা নেভি দক্ষিন চীন সাগরে তাদের সমুদ্র সীমা থেকে একটি মার্কিন রণতরী তাড়িয়ে দিয়েছে। চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি পিএলএ জানিয়েছে মার্কিন একটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিন চীন সাগরে তেল সমৃদ্ধ চীনা পানি সীমায় প্রবেশ করলে চীনা নেভি সেটাকে সতর্ক সঙ্কেত পাঠিয়ে সাবধান করে। এরপর মার্কিন এ রণতরী চীনা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। মার্কিন এ ডেস্ট্রয়ারের নাম ইউএসএস বেরি।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র লি হুয়ামিন এক বিবৃতিতে বলেন, চীনা পানিসীমায় মার্কিন এ রণতরীরর প্রবেশ খুবই উস্কানীমূলক, আন্তর্জাতিক রীতি লঙ্ঘন এং চীনা সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা স্বার্থ লঙ্ঘন। তবে পেন্টাগন মুখপাত্র জন সাপল দাবি করেছেন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেরি এবং আরেকটি রণতরী সফলভাবে ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশন পরিচালনা শুরু এবং শেষ করেছে। অপারেশন পরিচালনার কোনো পর্যায়ে তাদের রণতরী বিতাড়নের ঘটনা ঘটেনি।

বেশ কিছুদিন ধরে দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে বহুপাক্ষিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ চীন মালয়েশিয়া বিরোধকে কেন্দ্র করে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে নতুন রণতরী মোতায়েনের পর উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়। এদিকে হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল নির্মান করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্রুজ মিসাইল যুদ্ধ বিমান এবং বোমারু বিমান থেকে নিক্ষেপ করার উপযুক্ত হবে। এ মিসাইল নির্মানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স বিভিন্ন সমরাস্ত্র নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এ প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে এর খরচ এবং সম্ভাব্য কত দিনে এ মিসাইল উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনটির ভিডিও দেখুন

বিডিভিউজ-এ প্রকাশিত লেখার স্বত্ব সংরক্ষিত। তবে শিক্ষা এবং গবেষণার কাজে সূত্র উল্লেখ করে ব্যবহার করা যাবে