রাশিয়ার সামরিক শক্তি

সমরাস্ত্র অঙ্গনে রাশিয়ার উদ্ভাবন-সংগৃহীত -

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়াকে তুলনায় আনার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সমরাস্ত্র অঙ্গনে রাশিয়ার উদ্ভাবন ক্ষমতা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের জন্য শুধূ উদ্বেগের কারন নয় বরং বড় ধরনের ভীতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে মিসাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের অবিশ্বাস্য উদ্ভাবন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্বের সমস্ত প্রতিরোধ আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরুপে অকার্যকর করে দিয়েছে।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার মোট সৈন্য সংখ্যা ৩০ লাখ। সক্রিয় ১০ লাখ আর রিজার্ভ ২০ লাখ। বিমানবাহিনীতে মোট যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টারের সংখ্যা ৪ হাজার ১৬৩টি। ট্যাঙ্ক ১২ হাজার ৯৫০। সাজোয়া যান ২৭ হাজার ৩৮। রণতরী ৬০৩ টি । সাবমেরিন ৬২টি । ডেস্ট্রয়ার ১৬ আর ফ্রিগেট ১০টি। বিমানবাহী রণতরী আছে ১টি। ২০১৮ সালের সামরিক বাজেট ৬১ বিলিয়ন ডলার ।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট এর মতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার হাতে ৬ হাজার ৫শ পারমানবিক বোমা রয়েছে। ১৯৯৭ সালে রাশিয়া ঘোষণা দেয় তার হাতে ৩৯ হাজার ৯৮৭ টন কেমিক্যাল অস্ত্র রয়েছে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার কাছে ৪৫ হাজার পারমানবিক বোমা ছিল। ১৯৫৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ৫৫ হাজার পারমানবিক বোমা তৈরি করে বলে অনুমান করা হয়। ইউকিপিডিয়ার তথ্যে বলা হয়েছে ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ৬৮ হাজার পারমানবিক বোমার অধিকারী হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৩ সালে পারমানবিক কর্মসূচী শুরু করে।

এখন পর্যন্ত যত পারমানবিক অস্ত্র তৈরি হয়েছে তার মধ্যে সবচেযে শক্তিশালী রাশিয়ান আরডিএস ২০২ হাইড্রোজেন বোমা। এটি পশ্চিমা দেশে জার বম্বা নামে পরিচিত। ১৯৬১ সালের ৩০ অক্টোবর এর পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। বিশ্বে আজ অবধি যত বোমার বিষ্ফোরন ঘটানো হয়েছে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা। হিরোশিমা বোমার চেয়ে এট ৩ হাজার গুন বেশি ক্ষমতাম্পন্ন। এ বোমাই একটিই তৈরি করেছিল রাশিয়া।


হাইপারসনিক অ্যাভানগার্ড মিসাইল : বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আর অবিশ্বাস্য ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইলের অধিকারী রাশিয়া। ভয়ঙ্কর এ মিসাইলের নাম অভ্যানগার্ড হাইপারসনিক গ্লাইড ভিহিক্যাল। গত ২৭ ডিসেম্বর এটি রাশিয়ার অরেনবার্গ অঞ্চলে দক্ষিন উরাল পর্বত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। পারমানবিক বোমা বহনে সক্ষম এ মিসাইলের গতি শব্দের গতির চেয়ে ২৭ গুন বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বর্তমানে পৃথিবীতে কোনো দেশের কাছে এমন কোনো মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই যে, রাশিয়ান এ মিসাইল আক্রমন ঠেকাতে পারে। রাশিয়া চাইলে এটি এখন পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে যে কোনো সময় নিক্ষেপ করতে পারে। অর্থাৎ কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়া গোটা পৃথিবী এখন রাশিয়ার পারমানবিক বোমার আওতার মধ্যে। যদি কারো সাথে যুদ্ধ বাধে তবে রাশিয়া এ মিসাইল নিক্ষেপ করে সে দেশ বা অঞ্চল মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। কারো তা ঠেকানোর সাধ্য নাই।

২০১৬ সালে যখন এটির পরীক্ষা চালানো হয় তখন ঘন্টায় ৭ হাজার মাইল অতিক্রম করে লক্ষ্য বস্তুতে সফলভাবে আঘাত করে এ মিসাইল। ২০১৫ সাল থেকে ক্রমাগত পরীক্ষা চালানোর পর ২০১৮ সালে এ মিসাইল উদ্ভাবনের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিন। রাশিয়ান এ হাইপারসনিক অ্যাভানগার্ড মিসাইল মোতায়েন এবং চীনেরও এ ধরনের মিসাইল উদ্ভাবন চেষ্টার বিপরীতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশল তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে মর্মে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন রাশিয়ার এ মিসাইল সমরাস্ত্র জগত, রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে গেম চেঞ্জারের ভূমিকা পালন করবে। কারন বর্তমানে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যে, পারমানবিক বোমা বহন করে হাইপারসনিক গতিতে ছুটে আসা মিসাইলকে ঠেকানো যায়। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে তার একটিও চীন ও রাশিয়ার পারামানবিক বোমা হামলা ঠেকাতে সক্ষম নয়। অ্যাভানগার্ড মিসাইলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক দিক হলো রাশিয়া এর সাহায্যে প্রথমে হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের যুদ্ধে তারা জয়ী হবে।
রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অ্যাভানগার্ডকে রাশিয়ার প্রযুক্তির জন্য যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একে তিনি ১৯৫৭ সালে মহকাশে প্রথম সোভিয়েত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের ঘটনার সাথে তুলনা করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন দাবি করেছেন রাশিয়াই একমাত্র দেশ যার কাছে রয়েছে হাইপারসনিক অস্ত্র। তিনি বলেন, ইতিহাসে এই প্রথম রাশিয়া গোটা বিশ্বকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অস্ত্র উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর রাশিয়া তার নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছে।

এস-৫০০ মিসাইল সিস্টেম : রাশিয়ার এস-৫০০ ক্ষেপনাস্ত্র ব্যালিস্টিক মিসাইল, হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল এবং জঙ্গি বিমানসহ তীব্র গতিতে ছুটে আসা শত্রু পক্ষের অন্যান্য আকাশ অস্ত্র ধ্বংস করতে পারে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ-১৩৫ মিসাইল সিস্টেমের সমতুল্য আর রাশিয়ার তৈরি এর আগের এস-৪০০ মিসাইলের বর্ধিত সংস্করণ।

২০১৮ সালের মে মাসে রাশিয়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৫০০ মিসাইল পরীক্ষা চালায়। গত ২৮ ডিসেম্বর রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছে ২০২০ সালে তারা তাদের সর্বশেষ এ মিসাইল সিস্টেম আবারো পরীক্ষা চালাবে। এটি সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত করতে পারে। আর আকাশে ৬০০ কিলোমিটার দূরে থাকতেই এটি ব্যালিস্টিক মিসাইলকে আঘাত করতে পারবে । এ ছাড়া শত্রু পক্ষের ছোড়া অন্যান্য অস্ত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরে থাকতে আঘাত করে ধ্বংস করতে পারবে। প্রতি ঘন্টায় ১১ থেকে ১৬ হাজার মাইল গতিতে ছুটে আসা শত্রু পক্ষের ১০টি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সনাক্ত করে তাকে নিবৃত বা ধ্বংস করতে সক্ষম রাশিয়ার এস-৫০০ মিসাইল। ১০ চাকার শক্তিশালী সামরিক ট্রাকে বসিয়ে এটি নিক্ষেপ করা যায়।

রাশিয়ার কাছ থেকে তুরস্ক এ মিসাইল কেনার কারনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতির ঘটে। এ প্রেক্ষিতে ব্যাপক বিধ্বংসী এ মিসাইল ঘিরে চলছে আলোচনা । এ মিসাইল ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য। রাশিয়ার এস-৩০০ মিসাইলেরই উন্নত ভারসন হলো এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম। এস-৩০০ মিসাইলের যে ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে এর মাধ্যমে চার ধরনের মিসাইল ছোড়ার সক্ষম করা হয়েছে।

আকাশ যুদ্ধে আধিপত্য ধরে রাখার জন্য রাশিয়া বেশ কিছু যুদ্ধ বিমান তৈরি করছে। এরমধ্যে একটি যুদ্ধ বিমান নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আকাশে আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে অন্যতম আলোচিত জঙ্গি বিমানের নাম রাশিয়ার এসইউ- ৫৭। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক জঙ্গি বিমান এফ-২২ র‌্যাপটর কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাশিয়া তৈরি করেছে এ বিমান। দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট এ বিমান ব্যাপক বিধ্বংসী সমরাস্ত্র বহনে সক্ষম। রাশিয়া এখন পর্যন্ত ১০টি এ বিমান তৈরি করেছে।এর মধ্যে সম্প্রতি একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে প্রশিক্ষনের সময়। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজেদের জন্য এ ধরনের ৭৬টি বিমান তৈরির আদেশ দিয়েছেন। পঞ্চম প্রজন্মের এ যুদ্ধ বিমান স্টেলথ ফাইটার এবং বহুমুখী ক্ষমতা সম্পন্ন। ২০১০ সালে এটি প্রথম আকাশে ওড়ে।

সাবমেরিন : রাশিয়ার নৌ শক্তির প্রতীক আর গৌরব রাশিয়ান সাবমেরিন। সোভিয়েত আমল থেকে বর্তমান রাশিয়া এখন পর্যন্ত যে পরিমান সাবমেরিন নির্মান করেছে তা বিশ্বের সব দেশ মিলেও এখন পর্যন্ত তত সাবমেরিনের অধিকারী হতে পারেনি। সাবেক সোভিয়েত ও বর্তমান রাশিয়া ২৪৮টি সাবমেরিন নির্মান করে। এর মধ্যে ৯১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন। গ্লোবাল পাওয়ার এর তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার ৬৬টি সাবমেরিন বর্তমানে সার্ভিসে । এর মধ্যে ৩৭টি পরমানু শক্তিচালিত । ১১ টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাশিয়া বেলগোর্ড নামে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সাবমেরিন চালু করে। এর দৈর্ঘ ৬ ফুট । এটি ১ হাজার ৭শ ফুট পানির গভীরে যেতে পারে।

বিশ্বে এখ নপর্যন্ত যত সাবমেরিন নির্মিত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সাবমেরিন হলো রাশিয়ার টাইফুন ক্লাস সাবমেরিন। সোভিয়েত আমলে সোভিয়েত নেভির জন্য এ সাবমেরিন নির্মিত হয়। পরমানু শক্তিচালিত এ সাবমেরিন আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র সজ্জিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও ক্লাস সাবমেরিনের বিপরীতে নিমান করা হয় এ সাবমেরিন। টাইফুন ক্লাসের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ সাবমেরিন হলো বোরি ক্লাস সাবমেরিন এবং এটাও রাশিয়ার। সোভিয়েত আমলে নির্মিত ডেল্টা ৩, ডেল্টা ২ এবং টাইফুন সাবমেরিন পুনস্থাপিত করা হবে বোরি ক্লাস সাবমেরিনের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে এর তিনটি চালু হয়েছে। চারটি নির্মান চলছে ।

এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আর শক্তিশালী রণতরী কিরভ ক্লাস ব্যাটলক্রুজার । এটি পরমানু শক্তিচালিত ব্যাটলক্রুজার । এটি নির্মান করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী মোকাবেলায়। এতে রয়েছে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এটি নির্মান করা হলেও আজো এটি সমুদ্রে রাশিয়ার প্রয়োজন পুরনে সক্ষম। আসুন জেনে নেই রাশিয়ার আরো কিছু সমরাস্ত্রের তথ্য

টি-১৪ আরমাতা সুপার ট্যাঙ্ক : পশ্চিমাদের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়িয়ছে রাশিয়ার এ সুপার ট্যাঙ্ক। ব্যাপক প্রযুক্তি সম্পন্ন এ ট্যাঙ্ক ন্যাটোর কাছে থাকে ট্যাঙ্কের তুলনায় অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি সম্পূর্ণরুপে স্বয়ংক্রিয় । শব্দের চেয়ে ৫ গুন গতিতে ছুটে আসা আঘাত এটি সনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে । এতে রয়েছে এন্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। টি-১৪ এর আগে রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ট্যাঙ্ক হলো টি-৯০ ট্যাঙ্ক।

এনটি শিপ মিসাইল পি ৮০০ : ডপ-৮০০ একটি সুপারসনিক এন্টি শিপ মিসাইল। এ মিসাইল যুদ্ধ জাহাজ, সাবমেরিন, জঙ্গি বিমান এবং ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য। এ মিসাইলের গতি শব্দের চেয়ে তিন গুন বেশি। এটি ৩০০ কিলোমিটার দূর লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে।
টাইপ ৫৩-৬৫ ওয়েক হোমিং টরপেডো : সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য রাশিয়ান এ টরপেডো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজের জন্য এখনো বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারন এ টরপেডো প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্রাহ্য করে লক্ষ্যে গিয়ে আঘাত করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদিও এন্টি টরপেডো মোতায়েন করেছে একটি যুদ্ধ জাহাজে কিন্তু তা কতটা সফল তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কেএ-৫২ অ্যালিগেঁর : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সমান ক্ষমতা রয়েছে এর। এর গতি ঘন্টায় ১৮৬ মাইল। এতে ট্যাঙ্ক বাস্টার, ৩০ মিলিমিটার গান, ৮০ মিলিমিটার আনগাইডেড রকেট এন্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল সজ্জিত।