অনন্য উচ্চতায় হামাস : হারল ইসরায়েল


  • ফারজানা তানিয়া
  • ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ১৪:০৮

শুধু কি অস্ত্রের জোরে যুদ্ধজয় করা যায়? এর সোজাসাপ্টা উত্তর যে ‘না’, তা আরও একবার দেখেছে বিশ^। ইসরায়েলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দাপটকে পরাস্ত করে বুদ্ধিবৃত্তিক আদর্শিক জয় করায়ত্ত করেছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো। নিজেদের শর্তে রাজি করিয়ে যুদ্ধবিরতিতে আসতে ইসরায়েলকে বাধ্য করেছেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এই জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে গাজার বর্তমান শাসক হামাস।

বেশ দম্ভ নিয়ে কথা বলছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যাবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি হলে ইসরায়েলের আত্মসমর্পণ হবে; হামাস আবার ইসরায়েলে ঢুকে হামলার সাহস পাবে- এমন মন্তব্য করছিলেন ইসরায়েলি মন্ত্রীরা। হামাসকে ধ্বংস করে বন্দিদের মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তারা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্ত বলেছিলেন, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সম্ভাব্য কোনো চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করার অনুমতি তিনি দেবেন না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাগাড়ম্বরের পর যুদ্ধবিরতিতে আসা ইসরায়েলের জন্য বড় নৈতিক পরাজয় এবং হামাস ও অন্য প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর জন্য বিশাল মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয়। হামাসের বড় অর্জনটি হলো- একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় এসে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পেলেন। যে সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দিয়ে আলোচনার জন্য পরিত্যাজ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, মাত্র ৬ সপ্তাহের মাথায় তাদের মর্যাদার পরিবর্তন ঘটল। ‘সন্ত্রাসী’-র স্থলে হামাসের পরিচয় দাঁড়াল, তারাই ‘এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন’। আলোচনার জন্য তারাই ইসরায়েলের প্রতিপক্ষ।

এই চুক্তির মাধ্যমে হামাস অনন্য স্তরে পৌঁছেছে। এর আগে তৃতীয় পক্ষ বিশেষত মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও সেই চুক্তিগুলো এ-রকম পূর্ণাঙ্গ এবং বহুপক্ষের সম্পৃক্ততায় আন্তর্জাতিক মানের চুক্তি ছিল না। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে মধ্যস্থতায় এসে প্রকাশ্যে চুক্তিকে সম্মান জানানোর কথা বলছে; দুই মাস আগেও এই বাস্তবতা অকল্পনীয় ছিল। বিশ্লেষকদের বক্তব্য, চুক্তির ফলে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে হামাস। তারা বিশ্রাম পাবেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গাও হতে পারবেন। তাছাড়া, এরপর গাজার অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আসলে, ইসরায়েলকে চারদিক থেকে কোণঠাসা করার কাজে সফল হয় প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো। বহুমুখী প্রতিরোধ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া, যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, আন্তর্জাতিক চাপ, তীব্র অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, পঙ্গু হতে চলা অর্থনীতি- সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে ইসরায়েল। এ-সব কারণে বাইরে বাগাড়ম্বর থাকলেও যুদ্ধবিরতিতে আসতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি মন্ত্রীরাও লজ্জায় কুঁকড়ে গেছেন এই চুক্তিতে আসতে বাধ্য হওয়ার পর। ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার উগ্র ডানপন্থী ‘ওজমা ইয়েহুদিত’ পার্টির তিন সদস্য এই চুক্তি না করার জন্য লড়াই করেছেন। ওই তিন মন্ত্রী এই চুক্তিকে তেলআবিবের জন্য ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তেলআবিবের জন্য চুক্তিটি যে অবমাননাকর, তা স্বীকার করেছেন সিনিয়র মন্ত্রী বেনি গান্তজ। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের জন্য চুক্তিটি ‘কঠিন ও বেদনাদায়ক’ হলেও এই মুহূর্তে এছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।

হামাস কিংবা অন্য প্রতিরোধ আন্দোলগুলোর জয়ের ধারাটা মূলত রচিত হয়েছিল ৭ অক্টোবর, যেদিন তারা বিশ^কে অবাক করে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছিলেন। সেদিন ফজরের নামাজ সেরেই অভিযানে নামেন হামাসের যোদ্ধারা। শুরুতে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে প্রায় পাঁচ হাজার রকেট ছুড়ে ইসরায়েলকে হতবিহ্বল করে দেন তারা। এমনকি, তেলআবিব পর্যন্ত বিস্ফোরক ছোড়া হয়। একদিকে রকেট হামলার ঝড়, অন্যদিকে হামলার আড়ালে সীমান্তে ইসরায়েলের নজরদারি যন্ত্রপাতির ওপর ড্রোন হামলা। তারপর তারা সীমান্ত-বেড়ার ৮০টিরও বেশি জায়গায় বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে এবং প্যারাগ্লাইডার দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েন।

এরপর যা হয়েছে, তা সবার জানা। উন্মাদের মতো নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েল। শুরু হয় নির্বিচার বিমানহামলা। একটি গোষ্ঠীর অপরাধের দায় সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনি শিশু-নারী-বয়স্কদের ওপর চাপিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান। উন্মত্ত হামলা থেকে মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির, বেসামরিক এলাকা- কিছুই বাদ যায়নি। দেড় মাসের ব্যবধানে তাদের এই বর্বরতায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

হামাসের অভিযানের পরই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। দিন যত গেছে, সেই ব্যর্থতার অভিযোগ তীব্র হতে থাকে। ইসরায়েলজুড়ে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলেছে। হাজার হাজার মানুষ তার বাসভবন এবং পার্লামেন্ট ভবনের সামনে গিয়ে রাতদিন স্লোগান দিয়েছেন। নেতানিয়াহু সেই ব্যর্থতার দায় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে আরও ফেঁসে যান। সেনা কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন। নিজেকে সক্ষম প্রমাণ করতে তিনি স্থল-অভিযানের মতো আত্মঘাতি পদক্ষেপ শুরুর সিদ্ধান্ত দেন। ২৭ অক্টোবর গাজায় ঢুকে পড়েন ইসরায়েলি সেনারা।

এই অভিযানে হামাস ও অন্য প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় তাদের। বিপুল ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান হারাতে হয় ইসরায়েলকে। ইসরায়েলি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক কর্মকর্তাসহ ৭০ থেকে ৭৫ সেনা প্রাণ হারান। যদিও হামাস বলছে, এর আসল সংখ্যা অনেক বেশি। ইসরায়েলের সামরিক গোরস্থানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিঘণ্টায় গড়ে একটি করে সেনার লাশ আসছে; দুইদিনে ৫০টির মতো লাশ দাফন করেছেন তারা। সর্বশেষ ২১ নভেম্বর রাতে হামাসের যোদ্ধাদের হাতে এক জেনারেলের নিহত হওয়ার খবর আসে। স্থল-অভিযানের নামে ইসরায়েলি সেনারা হাসপাতালগুলো তছনছ করলেও হামাসের আস্তানার কাছাকাছিও তারা পৌঁছাতে পারেননি। তার ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা। হামাসের প্রকাশ করা ভিডিওতে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের পলায়ন, বিপুল সেনার প্রাণহানি এবং সেনাদের আর্তনাদের দৃশ্য দেখা গেছে।

একদিকে স্থলযুদ্ধ, অন্যদিকে গাজা থেকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ রকেট ছুড়েছেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। দিন যত গড়িয়েছে, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহতাও বেড়েছে। গত সোমবার হামাসের চালানো রকেট হামলাকে ৭ অক্টোবরের পর বৃহত্তম হামলা বলে অভিহিত করেছে সংবাদমাধ্যম।

শুধু হামাস নয়, বহির্বিশে^ তাদের সহায়ক সংগঠনগুলোও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রতিদিনই ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি ড্রোনও ব্যবহার করছেন। এতে ইসরায়েলের অনেকগুলো সেনাক্যাম্প ধ্বংস হয়েছে। একটি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরও গুঁড়িয়ে দিয়েছেন হিজবুল্লাহ-র যোদ্ধারা। তাদের হাতে বিপুল ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলীয় লেবানন-সীমান্তের বিশাল এলাকা এখন জনমানবহীন। লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ঘরছাড়া হয়ে সরকারি খরচায় নিরাপদ এলাকায় অবস্থান করছেন।

ইয়েমেন থেকে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে। তাদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে গেছে ইসরায়েল পর্যন্ত। সশস্ত্র ড্রোনও পাঠিয়েছেন তারা। সর্বশেষ লোহিত সাগরে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি জাহাজ আটক করে তারা ইসরায়েলি শাসকদের অন্তরে বড় ভয় ঢুকিয়ে দেন। হুথি বিদ্রোহীরা বলেছেন, জাহাজ আটকের এই ঘটনা অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া। হুথির পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, তারা ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং রোববারের জাহাজ আটকের ঘটনা ওই ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব মাত্র।

সিরিয়া ও ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বার্থে ব্যাপক আঘাত হানতে থাকেন। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোন হামলায় সিরিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক সেনা হতাহত হয়েছেন। তারা এই হামলা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এর জবাবে ইরান-সমর্থিত ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। গাজা-যুদ্ধ বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

চারদিক থেকে সংকুচিত হয়ে এসেছে ইসরায়েল। কূটনীতিতে তারা বন্ধুহীন হয়ে পড়েছেন। শুধু তারা নয়, তাদের বন্ধু যুক্তরাজ্যের ক্ষমতার মসনদ এখন নড়বড়ে। বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানকেকে সরিয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে; তারা মাঝেমধ্যে ইসরায়েলি স্বার্থের বিপক্ষে কথা বলছেন। ১০টিরও বেশি দেশ ইসরায়েল থেকে তাদের কূটনীতিক সরিয়ে নিয়েছে। আরও অনেক দেশ সরিয়ে নেওয়ার পথে রয়েছে। এ-সব কারণে ইউরোপের অনেক কূটনীতিক ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করতে থাকেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেক ইউরোপীয় দেশ আরব ও ইসলামি দেশগুলোতে প্রকাশ্যে কোনো ইভেন্ট করতে পারছে না। এ-কারণে তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে আসতে ব্যাপক চাপ দিতে থাকে।

শুধু বহির্বিশে^র চাপ নয়, ঘরের অসন্তোষ নেতানিয়াহুর জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। হামাসের হাতে থাকা জিম্মির স্বজনরা একনাগাড়ে আন্দোলন করতে থাকেন। তারা যে-কোনো কিছুর বিনিময়ে, প্রয়োজনে হামাসের সঙ্গে চুক্তি করে হলেও বন্দিদের ফেরাতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রীদের সঙ্গেও কয়েকবার বৈঠক করেন তারা। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিরোধীদল। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, যে-কোনো ধরনের চুক্তির বিনিময়ে এখন বন্দিদের ফেরানোই আসল কাজ।

হামাসের কাছে মাথানত করে ইসরায়েলের চুক্তিতে আসার অন্যতম বড় কারণ ধসে পড়া অর্থনীতি। দেড় মাসের যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি এখন প্রায় পঙ্গু। অনেক সংবাদমাধ্যম বলেছে, যুদ্ধের কারণে ২০ থেকে ২৫ হাজার বিদেশি কর্মী ইসরায়েল ছেড়েছে। তার ওপর তিন লাখ লোককে সামরিক রিজার্ভ ডিউটিতে ডাকার কারণে দেশটির শ্রমশক্তির বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলে যে-কোনো সময় যে-কোনো জায়গায় বোমা পড়তে পারে। সে-কারণে দেশটিতে আগত পর্যটকদের সংখ্যা তিন-চতুর্থাংশ কমেছে। বলা যায়, এই খাতে বিপর্যয় নেমেছে। যুদ্ধের জন্য গ্যাসক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রকল্প ও বিনিয়োগ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর হামলার কারণে গাজা ও লেবানন সীমান্তের বিশাল এলাকার অর্থনীতি এখন স্থবির। অনেক জায়গায় কৃষিকাজ নেই; উৎপাদন বন্ধ। তার ওপর গাজায় যে পরিমাণ ব্যয়বহুল বোমা তারা ফেলছে, তার পুষিয়ে আনা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের অর্থনীতি যে জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, তা এক কথায় বিপর্যয়কর।

অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চারদিক থেকে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করে তাদের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আনতে বাধ্য করেছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতাকারী কাতার বলেছে, এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেবে এবং এর মাধ্যমে কূটনীতির পথ বেয়ে ফিলিস্তিন-সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে। দৃশ্যত, তাই। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা যে অসাধারণ নরম-গরম কূটনীতির পথ বেয়ে হাঁটছেন, তাতে আরও বড় বিজয় হয়তো ফিলিস্তিনিদের জন্য অপেক্ষা করছে।