কী করবেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নতুন কুদস ফোর্স কমান্ডার

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ব্রিগেডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি-সংগৃহীত -

এক জেনারেলের জায়গায় এলেন আরেক জেনারেল। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সুলায়মানির দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি। সুলায়মানির মতো তিনি এতোটা আলোচিত নন। কারন সুলায়মানির কাজের ক্ষেত্র ছিলো ইরানের পশ্চিম সীমান্তের ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়া ও লেবানন নিয়ে। অপরদিকে কায়ানির কাজের ক্ষেত্র আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যএশিয়া নিয়ে।


সুলায়মানির মতো কায়ানিও তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে নিষ্টাবান। নিছক চাকরি নয়, আদর্শিক চেতনা এই দায়িত্বের প্রেরনা। ফলে সুলায়মানির শূন্যস্থান পূরনের জন্য কায়ানি আর তার সহযোগী কর্মকর্তারা চেষ্টা করে যাবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর দুর্ধর্ষ এই বাহিনী গড়ে উঠেছে সুলায়মানি ও কায়ানির মতো ষাটোর্ধ্ব কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে।
ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর সদস্য সংখা ১ লাখ ২৫ হাজার। এই বাহিনীর একটি অংশের নাম কুদস ফোর্স। যারা কাজের জন্য ইরানের সব্র্ােচ্চা ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর নিকট দায়বদ্ধ। এই বাহিনী ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রকল্প, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন নৌ এবং স্বোচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনী তদারকি করে। কুদস ফোর্সের মুল কাজ সীমান্তের বাইরে ইরানের স্বার্থ দেখা। প্রয়োজনে অভিযান চালানো এবং বন্ধু সংগঠনগুলোকে সহযোগতা প্রদান করা।


দায়িত্ব নেয়ার পর কায়ানি বলছেন, আমরা যুদ্ধের শিশু। সুলায়মানি ছিলেন যুদ্ধ ক্ষেত্রের নেতা, যুদ্ধের মাঠে তার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে। আমরা প্রথম কাজ হবে এই হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেয়া। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সৈন্যটি চলে না যাওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। এ কারনে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে সুলায়মানি যে ভাবে ইরানের প্রভাব বাড়িয়েছেন তা এগিয়ে নেয়া হবে তার প্রথম কাজ।
ইসমাইল কায়ানির জন্ম ১৯৫৭ সালে মাশহাদ নগরে। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের এক বছর পর তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি সুলায়মানির একজন ঘনিষ্ট অফিসার হিসাবে এই বাহিনীতে পরিচিত ছিলেন। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কায়ানি তাদের একজন। ২০১৫ সালে তিনি ইঙ্গিত দেন ফিলিস্তিনিরে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করবে ইরান। কারন নিপীড়িত মানুষের পাশে দাড়ানো ইরানের কর্তব্য।


কোনো কোনা পশ্চিমা মিডিয়ায় তাকে অনেক বেশি আমলাতান্ত্রিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য না যাওয়া পর্যন্ত তিনি যে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কায়ানি দায়িত্ব নেয়ার পর সুলায়মানির কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং কুদস ফোর্সের কর্মকান্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না।