করোনা দূর্যোগ

ভাইরাস আমাদের দেহে প্রবিষ্ট হয়ে বহুপ্রকার রোগ উৎপাদন করে - সংগৃহীত


কদিন আগেও আমরা অনেকে ভাইরাস শব্দটা শুনিনি। কিন্তু এখন সেটা শুনতে পাচ্ছি বিশেষভাবে। ভাইরাস নিয়ে কিছু আলোচনা করতে হলে তা হয়ে ওঠে বিশেষভাবেই রসায়ন শাস্ত্রের ব্যাপার; যার পরিভাষা আমাদের পক্ষে বোঝা সহজসাধ্য নয়। ভাইরাস বলতে বোঝায় সাধারণভাবে এমন রোগ উৎপাদকদের, যাদের গড়পড়তা ব্যাস ১/৪০০০০০ মিলিমিটার এর কাছাকাছি। ভাইরাসরা গঠিত প্রধানত প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিডের দ্বারা। রসায়ন শাস্ত্রের জ্ঞান ছাড়া এদের ধারণা করা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন আমরা সাধারণ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেখছি এদের কথা।


ভাইরাস আমাদের দেহে প্রবিষ্ট হয়ে বহুপ্রকার রোগ উৎপাদন করে। কারণ তারা আমাদের দেহকোষকে বাধ্য করে ভাইরাস উৎপাদনে। আমাদের দেহকোষের রাসায়নিক বিক্রিয়া এর ফলে ভাইরাসের আক্রমণে বদলে যায় বিশেষভাবে। যাকে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাস, তাকে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় সাধারণ সর্দি রোগ উৎপাদক ভাইরাসদের সঙ্গে। সাধারণ সর্দি রোগ উৎপন্ন হয় প্রায় ষাট রকম বা  ষাট প্রকার সর্দি রোগের ভাইরাসের জন্য। যাকে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাস, যার প্রভাবে উদ্ভব হচ্ছে করোনিয়া নিউমোনিয়া, তা আগে ছিলনা। রোগটার উদ্ভব হয়েছে হঠাৎ করেই। মনে করা হচ্ছে এই রোগজীবাণুটির সৃষ্টি করেছে চীন। জীবাণু যুদ্ধের প্রয়োজনে। চীনের উহান শহরে প্রথম জানা যায় করোনা ভাইরাসের কথা।

উহান শহরের এক তরুণ চক্ষু বিশেষজ্ঞ লি ওয়েন লিয়াং প্রথম বলেন এই ভাইরাসের কথা। লি ওয়েন লিয়াং ছিলেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ। বক্ষ রোগ বিশেষজ্ঞ নন। কিন্তু তিনি প্রথম বিশেষভাবে বলেন করোনা ভাইরাসের কথা ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে। তাঁর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এসময় উহান শহরে করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে থাকে শ’য়ে শ’য়ে লোক। লি ওয়েন লিয়াং নিজেও আক্রান্ত হন এই রোগে। আর তার মৃত্যু ঘটেছে এই একই রোগে। চীন বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিমভাবে এই জীবাণুটির উদ্ভব ঘটিয়েছে। জীবাণু যুদ্ধের প্রয়োজনে। কিন্তু রোগটির আবির্ভাব ঘটেছে প্রথমে চীনে।


আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন রোগটির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য উঠে-পড়ে প্রচার শুরু করেছে জানিনা কেন। তবে এর মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে চীনের ভাবমূর্তি রক্ষা করবার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে বিপন্ন করবার। বিএনপির এই রাজনীতি আমাদের জাতীয় স্বার্থে মোটেও সমর্থনীয় নয়। রাতারাতি আমাদের দেশে বিএনপি হয়ে উঠেছে একটা করোনা নিউমোনিয়া ভাইরাস বিশেষজ্ঞ দল। আর কোন চিকিৎসক নন, মওদুদ সাহেব এর মতো একজন উকিল নিচ্ছেন করোনা নিউমোনিয়া প্রতিরোধের ভার। এ বিষয়টিকে অনেকের কাছে মনে হতে পারে হাস্যস্পদ। বিএনপিতে অনেক চিকিৎসক আছেন। তাঁরা যদি সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হতেন, তবে রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপির ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হতে পারত। এখন পৃথিবীতে একজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত লোক থেকে ভাইরাসটি তিনটি লোকে প্রসার লাভ করছে বলে প্রকাশ।